
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণায় নির্বাচনের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রচারণা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার রাতেই। শেষ সময়ে ভোটারদের মন জয় করার জন্য বিরামহীনভাবে ছুটছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের পদভারে মুখরিত গোটা ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা।
রাত-দিন ঘুম হারাম করে প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। বসে নেই কর্মী সমথর্করাও। সমানতালে ছুটছেন তারাও। ভোটারের গায়ে প্রার্থীদের হাত, দোয়া চাওয়া, উন্নয়নের প্রতিশ্রæতি, চা-নাস্তা-পান খাওয়ানো, সবই চলছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ততই জমে উঠছে। হোটেল-রেস্টুরেন্ট, চায়ের কাপে বইছে ভোটের ঝড়। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে ইউনিয়নগুলোর পুরো এলাকা।
ইকবাল আহমদ, নয়নুজ্জামান, কাবুল মিয়াসহ একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থীরা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটাররাও কৌশলে প্রার্থীদের ভোট দেবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের আমলে বেশ উন্নয়ন হলেও গত ২০১৮ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হন। তাই নৌকা ও স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীকেই এখানে খাট করে দেখার সুযোগ নেই। সবমিলিয়ে ভোটের ফলাফল কি দাঁড়ায়, তা দেখতে শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
উপজেলার নুরপুর গ্রামের আকমল হোসেন বলেন, বিপদে-আপদে যাদের কাছে পাবো, যারা গরীবের দুঃখ-কষ্ট বুঝবেন, ভোটে জেতার পর এলাকায় থাকবেন, তাদেরকেই ভোট দেবো। ঘিলাছড়া এলাকার তরুণ ভোটার জুবের আহমদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে জনগণের চাওয়ার পাওয়ার অনেক কিছু থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী চয়েসে মূল বিষয় সালিশ ব্যক্তিত্ব। তাই ভোটাররা যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার সর্বত্র বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এলাকার প্রত্যেক সড়ক, পাড়া, মহল্লায় প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এছাড়া প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের ঘরে ঘরে। চলছে মাইক বাজিয়ে প্রচারণা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেক প্রার্থী।
১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তৈয়বুর রহমান শাহিন(নৌকা), ইকবাল আহমদ খান(ঘোড়া) ও আক্তার আলী(আনারস)। ২নং মাইজগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত জুবেদ আহমদ চৌধুরী শিপু(নৌকা), শাহ মো. নুরুল ইসলাম বাছিত (মোটর সাইকেল), ইমরান আহমদ চৌধুরী(ঘোড়া), মুহিত আহমদ শাহ(আনারস), মোহাম্মদ জুমাদুল করিম চৌধুরী(চশমা) ও আহমদ বেলায়েত হোসেন(অটোরিক্সা)।
৩নং ঘিলাছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী- আওয়ামী লীগ মনোনীত সাইফুল ইসলাম(নৌকা), মো. রুকুনুজ্জামান চৌধুরী(চশমা), আপ্তাব আলী(ঘোড়া), মো. আমিনুর রহমান (টেবিল ফ্যান), মো. বুরহান উদ্দিন সিন্দু(মোটর সাইকেল), শেখ মো. আখতার হোসেন উস্তার(অটোরিক্সা) ও আশরাফ আলী খান(আনারস)। ৪নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী- আওয়ামী লীগ মনোনীত লুদু মিয়া(নৌকা), আহমদ জিলু(আনারস), মো. ফজলুর রহমান(ঘোড়া), সুহেল ইসলাম(লাঙ্গল) ও মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম(মোটর সাইকেল)। ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত জুনেদ আহমদ(নৌকা), মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন(আনারস) ও আবজাল হোসাইন(ঘোড়া)।
এছাড়াও পাঁচটি ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ২১ জন ও পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৫টি ওয়ার্ডে সদস্য পদে ২১৯ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নজরদারি ও কঠোর অবস্থান থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মো. শাফায়েত হোসেন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মোট নারী ও পুরুষ ভোটার ৮১ হাজার ৮৯৫ জন। উপজেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন অফিসার এহসানুল কবির ফেরদৌস বলেন, পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৫টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।