ফেঞ্চুগঞ্জে সম্পদে এগিয়ে নুরুল ইসলাম, শিক্ষায় ডলি ফেঞ্চুগঞ্জে সম্পদে এগিয়ে নুরুল ইসলাম, শিক্ষায় ডলি – ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ
  1. admin@fenchuganjnews.com : admin :
১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শুক্রবার| সন্ধ্যা ৬:০১|

ফেঞ্চুগঞ্জে সম্পদে এগিয়ে নুরুল ইসলাম, শিক্ষায় ডলি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪
রুমেল আহসান:: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এর মধ্যে শিক্ষায় এগিয়ে সুলতানা রাজিয়া ডলি। স্থাবর সম্পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। এছাড়াও অপর প্রার্থী জাহিরুল ইসলাম মুরাদ, আশফাকুল ইসলাম সাব্বির ও ডলির সম্পদ অন্যদের চেয়ে কম। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি এর আগে ১৯৯১ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি মামলায়ও তিনি এগিয়ে। এবার নির্বাচনে নতুন মুখ তরুণ সাব্বির। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।
অতীতে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা ছিল। এর মধ্যে ছয়টি মামলা অব্যাহতি পেয়েছেন ও একটি মামলা খারিজ হয়েছে। নুরুল ইসলামের বার্ষিক আয় ৩০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাত থেকে আয় ৫০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ২৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, চাকরি (চেয়ারম্যান পদের সম্মানী ভাতা) থেকে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও অন্যান্য খাত থেকে আয় ৬০ হাজার টাকা। নুরুলের অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ টাকা রয়েছে ১০ লক্ষ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ২০ লক্ষ টাকা। মেসার্স সুরমা ব্রিকস এন্ড কোম্পানির মালিক নুরুল ইসলামের সবমিলিয়ে ২ কোটি ২৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯৮১ টাকা আছে, যা তার আয়কর অনুযায়ী জানা গেছে।
নুরুল ইসলামের একটি ল্যান্ডক্রুজার প্রাডো জীপ, এ ছাড়া আরও ট্রাক একটি, ট্রাক্টর তিনটি, একটি স্পিডবোট, একটি মিনি ট্রাক ও একটি এক্সকেভেটর রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণ রয়েছে। বাড়িতে ৬০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নুরুলের কৃষিজমি আছে ৮.৫ একর। এ ছাড়া পৈতৃক ভিটায় একতলা বাড়ি ও সিলেটের উপশহরে বাণিজ্যিক বাসা রয়েছে।
জাহিরুল ইসলাম মুরাদের নামে দুটি মামলা ছিল এবং তা নিষ্পত্তি হয়েছে। মুরাদের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর কাছে নগদ ১০ হাজার টাকা। ব্যাংকে মুরাদের নামে জমা আছে ৩ লক্ষ ২২ হাজার ৮২ টাকা ও স্ত্রীর নামে আছে ২২ হাজার টাকা। স্ত্রীর ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণ রয়েছে, বাড়িতে ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৬০ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ১.৮ একর কৃষি জমি ও যৌথ মালিকানায় একটি বাড়ি রয়েছে।
আবদুল বাছিত টুটুলের নামে একটি মামলা ছিল এবং সেই মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে আছে নগদ ১ লক্ষ ১ হাজার ২৬৪ টাকা ও স্ত্রীর নামে আছে নগদ ২ লক্ষ টাকা। তাঁর কৃষিখাত থেকে বার্ষিক হয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। টুটুলের একটি টয়োটা ফিল্ডার গাড়ি ১৪ লক্ষ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণের দাম ৮০ হাজার টাকা, বাড়িতে আসবাব রয়েছে ২০ হাজার টাকার। ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেছেন ২২ লক্ষ ৫৪ হাজার ২৪ টাকা। কৃষি জমির মধ্যে পৈত্রিক ৩ একর, একটি পৈত্রিক বাড়ি ও ১০ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা দামের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
আশফাকুল ইসলাম সাব্বিরের নামে কোনো মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ টাকা।  বাড়িতে ১ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ১ লক্ষ টাকার আসবাব রয়েছে। মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স নামে সাব্বিরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাঁর কাছে নগদ ৩ লক্ষ টাকা আছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাব্বিরের ৩৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
সুলতানা রাজিয়া ডলি পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি বার্ষিক আয় করেন ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ৪০ হাজার টাকা ও আইনজীবী পেশা থেকে ৪ লক্ষ টাকা। ডলির কাছে নগদ ২ লক্ষ টাকা, একটি গাড়ি ও ২ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। বাড়িতে ২ লক্ষ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ২ লক্ষ টাকার আসবাব রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১০০ শতক কৃষি জমি আছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও পেশা ব্যবসা। জাহিরুল ইসলাম মুরাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও পেশা ব্যবসা। আবদুল বাছিত টুটুলের শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এ ও পেশা ব্যবসা (ঠিকাদারি)। আশফাকুল ইসলাম সাব্বিরের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও পেশা ব্যবসায়ী (ঠিকাদারি)। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্য প্রবাসী। সুলতানা রাজিয়া ডলির শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি ও পেশা আইনজীবী। প্রার্থীরা এসব তথ্য হলফনামায় দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর