রুমেল আহসান:: পাহাড়ি ঢলে ও অতিবৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ১৭ দিন ধরে পানিবন্ধী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাবাসী। ডুবে গেছে বাজারের প্রধান সড়ক। পানি উঠেছে ঘরে ঘরে। ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ। যাতায়াত করতে নৌকা ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘস্থায়ী এই বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ।
জানা যায়, গত ১৭ জুন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়ক ও গ্রামের রাস্তাঘাট। পানিবন্দী হয়ে পড়েন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। গত ২৩ জুন থেকে ধীরে ধীরে বন্যার পানি কমতে শুরু করে। কিন্তু বন্যার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। গত সপ্তাহে সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছিল। তবে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২ জুন থেকে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হতে থাকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে নদী তীরবর্তী গ্রামের রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু সমান পানি আবার কোথাও কোমর সমান পানি। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা দেখা দেওয়ায় চরমে দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দী মানুষেরা। গয়াসী গ্রামের সজল বিশ্বাস বলেন, প্রায় ২০ দিন ধরে আমার ঘরে হাঁটু সমান পানি। একটু একটু করে পানি কমছিল। দুদিনে আবার পানি বেড়ে গিয়েছে। পিঠাইটিকর গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, আমাদের ঘরে পানি। ছোট ছোট শিশু থাকায় আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি। ঘরের মেঝেতে ইট বিছিয়ে ও বস্তা দিয়ে মাটি ফেলে থাকছি। রান্না করতে খুবই কষ্ট হয়।
ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা সাধন দেবনাথ বলেন, আমার বাসায় হাঁটু সমান পানি। দোকানেও পানি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে আছি। একই এলাকার বাসিন্দা সৌরভ, বিজয় ও তাপস জানান, আমাদের বসতঘরে বুক সমান পানি। বন্যার পানি না নামায় আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। কবে পানি নামবে আর আমাদের দুর্ভোগ শেষ হবে, চিন্তা করে পাচ্ছি না।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, গত দুই তিন সপ্তাহ ধরে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমলেও একমাত্র ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে ছিল। গত দুদিন ধরে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হওয়ায় পাহাড়ি ঢল সুরমা ও কুশিয়ারা নদী দিয়ে নামছে ও সিলেটে অতিবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। ফলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে।