রুমেল আহসান:: সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত ফেঞ্চুগঞ্জ সেতুর টোল আদায়ের পক্ষে রয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ অধিদপ্তর। তবে সেতু নির্মাণের পর কয়েকগুণ টাকা টোল আদায় হয়েছে দাবি করে স্থায়ীভাবে টোল বন্ধের দাবি জানান এলাকাবাসী। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওইদিন দুপুরে টোলপ্লাজায় আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। সে সময় টোলপ্লাজা ছেড়ে পালিয়ে যান আদায়কারী। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ফের টোল আদায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে টোল আদায় হচ্ছে। বর্তমানে টোল আদায় বন্ধ চান এলাকাবাসীসহ যানবাহন চালকেরা।
চলতি বছরের মে মাসে ফেঞ্চুগঞ্জ সেতু টোলপ্লাজায় মাসে লাখ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠে। টোল প্লাজায় এশিয়ান ট্রাফিক এন্ড টেকনোলজি লিমিটেড (এটিটি) টোল আদায়ের দায়িত্বে ছিল। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করা এবং মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে টোল প্লাজার অর্থ আদায়ের দায়িত্ব বুঝে নেয় সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ দায়িত্ব নিলেও দীর্ঘ ৭ মাস ফেঞ্চুগঞ্জ টোলপ্লাজার কম্পিউটার বিকল রেখে হাতে কলমে রশিদ দিয়ে টোল আদায় করে। ব্যাংকে জমা দেওয়া হিসাব থেকে জানা যায়, এ বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ফেঞ্চুগঞ্জ টোল প্লাজায় এই ছয়দিনে ৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৭৩ হাজার ১৬৬ টাকা ব্যাংকে জমা হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা টোল প্লাজায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে টোল আদায় বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার থেকে ফের চালু হওয়া টোল আদায় করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
এদিকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে মৌলভীবাজার-রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ-সিলেট সড়কের (এন ২০৮) ৩৬তম কিলোমিটারে অবস্থিত ফেঞ্চুগঞ্জ টোলপ্লাজায় পুনরায় টোল আদায় শুরু হচ্ছে। সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সিলেট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এতে খরচ হয়েছিল ২৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। টোলপ্লাজা থেকে প্রতিদিন খাস কালেকশন করা হচ্ছে দেড়-দুই লাখ টাকা। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে জানা যায়, সেতুটির টোল হিসেবে প্রতিবার পারাপারের সময় বিভিন্ন ধরনের ট্রাক, বাস, প্রাইভেট কারসহ নানা প্রকারের যানবাহন থেকে আদায় করা হয় ২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা। এ ছাড়া সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ১৫ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। বর্তমানে মোটরসাইকেল থেকে কোনো টোল আদায় করা হয় না।
সুমন মিয়া নামের একজন অটোরিকশাচালক বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে কটালপুর বাজার পর্যন্ত অটোরিকশায় যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১০ টাকা। অল্প দূরত্বের এ পথে অনেক ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলে। যে কারণে বেশি যাত্রী পাওয়া যায় না। অনেক সময় দুই থেকে তিনজন নিয়েও চলতে হয়। দুজন নিলে ভাড়া হয় ২০ টাকা। ওই ২০ টাকা থেকেও ১৫ টাকা টোল দিতে হয়।
ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারে আরও কয়েকজন অটোরিকশাচালক বলেন, অনেক অটোরিকশা সারা দিনে অন্তত ১০ বার ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে সিলেট শহরে যায়। আসা-যাওয়ায় ২০ বার সেতু পার হতে হলে ৩০০ টাকা দিতে হয় টোল। সারা দিনে ৩০০ টাকা টোল দেওয়ার পর সংসার খরচের জন্য তেমন কিছু থাকে না।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সড়ক পরিবহন ঐক্য পরিষদের সভাপতি রাসেল আহমদ টিটু বলেন, ‘নির্মাণ ব্যয় ওঠার পর টোল আদায় বন্ধ করা উচিত। আমরা অনেকবার এ সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছি। অটোরিকশা চালকসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনের চালকের প্রতিবার পারাপারের সময় টোল দিতে হয়; যা তাঁদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।’
সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, ‘সওজ কর্তৃপক্ষ সরকারের রাজস্ব আদায় করতে টোল ফের চালু হয়েছে।’