
রুমেল আহসান: দীর্ঘ ১৬ বছর পর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিকের পক্ষে মান-অভিমান ভুলে এক মঞ্চে কাজ করার শপথ নেন বিএনপি নেতারা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সদর বাজারের সামাদ প্লাজার এমএসসি পার্টি সেন্টারে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তছলিম আহমদ নেহারের পরিচালনায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিএনপির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ত্রি’ধারায় বিভক্ত ছিল। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহিদুজ্জামান ছুফি চৌধুরী। কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালামের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তছলিম আহমদ নেহার। সিলেট জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালের একটি বলয় স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। এজন্য তিনভাগে বিভক্ত ছিল বিএনপির রাজনীতি।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ব্যারিস্টার সালাম ও খান জামাল। কিন্তু যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালিককে বিএনপি মনোনয়ন দেওয়া হয়। বিএনপির প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে একদিকে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হলেও অপরদিকে দেখা দিয়েছিল অস্থিরতা ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের বলয় ঘিরে হতাশা।
মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে মালিকের সঙ্গে উপস্থিত হন কাইয়ুম ও সালাম। তাদের এই ঐক্য দেখে দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দিত হন।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় খান জামাল, ছুফি ও নেহার একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকারবদ্ধ হোন। মান-অভিমান ভুলে উপজেলার ৩৬টি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য শপথ নেন দলীয় নেতাকর্মীরা।