আমি জানতাম পুলিশ’র কাম চোর-ডাকাইত ধরা না এখন দেখি তারা আমরারে খানি দিরা ত্রাণ ও দিরা। ওউ লাগাইয়া ২ বার আমরারে খানি দিলা পুলিশ হকলে। পয়লা বার আমি নৌকায় পুলিশ আওয়া দেখিয়া ডরাইছি। মনো করছি কারে ধরিয়া নিতা করি আইছন। পরে নৌকা কাছে আওয়ার পরে দেখি নৌকার মাঝে বড় ডেগ আর চাউলর বস্তা। আমার ভুল ভাঙ্গিল পুলিশর কাম লইয়া।’
‘পুলিশ হকলর খানি পাইয়া পেট ভরিয়া খাইলাম আইজ ২ দিনে। আমরা যে স্কুলও উঠছি ইনো পানি উঠি গেছে। সব সময় রান্ধা যায় না এর লাগি পেট ভরি খাওয়াও যায় না। পুলিশ হকলর ব্যবহারে আমার দিল ভরি গেছে। ওসি এ আমারে মা ডাকছইন। বাক্কা সময় আমার লগে মাতছইন জিকাইছইন আমার পরিবারও কে কে আছই কে কিতা করইন। কিলা চলিয়ার পানির মাঝে। খানি পাইয়ার নি আমিও তানরে আমার নিজর পুয়ার লাকান সবতা কইছি। আমারেও ওসি এ কইছন যে সময় যেতা দরকার তানরে ফোন করতাম। তান তান ব্যবহারে আমি সন্তুষ্ট। বাড়িত পানি উঠছে আর লাগি স্কুলও পরিবারর লগে আইছি এখন স্কুলও পানি উঠি গেছে। পানির মাঝে ঢর করে সাপ-কোপে কামড় দিব। বাছমু কি মরমু জানি না’
কথাগুলো বলছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর গ্রামের সালেখা বেগম(৬৮)। বাড়ি ঘর পানিতে তলিয়ে যাবার কারণে উঠেছেন পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর সরকারও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে। এখানে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো অনেক কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত তিনদিন আগে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মো. শাফায়েত হোসেন সেই এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন। সোমবার (২৭ জুন) সকালে ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজের প্রতিবেদক সেই আশ্রয় কেন্দ্রে এভাবে নিজের মনের কথা খুলে বলেন সালেখা বেগম।
জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মো. শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ সদস্য ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন।
গত বুধবার পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর গ্রামে এই খাদ্য সামগ্রী পেয়ে অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন সালেখা বেগম।
ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের রেল কলোনীর বাসিন্দা আজিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ ভাইয়েরা আমাদের ত্রাণ দিচ্ছেন। তারা আমাদের কষ্টের কথা শুনছেন, ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে এই পর্যন্ত থানা পুলিশের উদ্যোগে দেড় হাজার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।