
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মাজারে দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়েছে এবং নতুন করে ছয়টি দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাজারের দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতে ডাবল লক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এসব দানবাক্সের চাবি মাজার কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। আগে যেসব স্থানে সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করা হতো, সেসব স্থানে নতুন করে ছয়টি দানবাক্স বসানো হয়েছে।
এছাড়া পুরোনো দানবাক্সের কোনোটিতে সিলগালা এবং কোনোটিতে ডাবল লক লাগানো হয়েছে। দানবাক্স পরিচালনা ও তদারকির জন্য সরকারি কর্মকর্তা এবং মাজার কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দেওয়া অনুদান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা এসব দানবাক্সে জমা হবে। মাজারে আগত হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি শিফটে ১৮ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সঙ্গে পুরো মাজার কমপ্লেক্সকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার কাজ চলছে, যাতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়। এ ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি মেডিকেল সাপোর্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, মাজার এলাকার দীর্ঘদিনের পার্কিং ও যানজট সমস্যা সমাধানে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে মাজার এলাকায় শৃঙ্খলা ও দর্শনার্থীদের সেবা আরও উন্নত হবে।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম কালবেলাকে বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডাবল লক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। নতুন করে ছয়টি দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলোর চাবি প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে। দানবাক্স পরিচালনার জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও মাজার কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো দানবাক্সগুলোতে সিলগালা ও ডাবল লকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাজারে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন শিফটে ১৮ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো মাজার কমপ্লেক্সকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
এছাড়া পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ, জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল সাপোর্ট সেন্টার চালু এবং দীর্ঘদিনের পার্কিং ও যানজট সমস্যা সমাধানে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মাজারে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও উন্নত সেবার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে গত ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। এ দুটি মাজারকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমে নির্দিষ্ট মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সিলেটের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী এসব মাজারে আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন।