
জাকির আহমদ চৌধুরী:: সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাদেদেউলী গ্রামের সুরঞ্জিত চন্দ্র দাস(২৪)। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে পৌঁছেই ভালো কাজ করছিলেন, পেয়েছিলেন আকামাও। তবে স্বপ্নের ইউরোপে যাওয়ার জন্য দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব এই যুবক। বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কিরগিজস্তানে।
পাসপোর্ট নিজের কাছে না থাকায় ফিরতে পারছেন আরব আমিরাতে ও নিজ দেশে। দালালের কাছে রয়েছে পাসপোর্ট। সব মিলিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন সুরঞ্জিত। তিনি উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের বাদেদেউলী গ্রামের সুকুমার চন্দ্র দাসের ছেলে।
জানা যায়, আরব আমিরাত থেকে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে যাওয়ার জন্য সুরঞ্জিতকে প্রলোভন দেখান মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার রুহেল আহমদ। রুহেল আরব আমিরাতে স্বপরিবারে বসবাস করেন। আরব আমিরাত থেকে মানবপাচারের একটি চক্রের সদস্য তিনি। দালাল রুহেল সুরঞ্জিতকে পোল্যান্ড পাঠানোর কথা বলে ৯ লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী সুরঞ্জিতের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা নেন দালাল রুহেল। আরব আমিরাত থেকে সুরঞ্জিতসহ ২০ সদস্যের একটি গ্রæপকে নিয়ে কিরগিজস্তান যান রুহেল। কিরগিজস্তানের ভিসার মেয়াদ ছিল এক মাস। এরপর থেকে সুরঞ্জিত সহ বেশ কয়েকজনের পাসপোর্ট নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান দালাল রুহেল।
ভুক্তভোগী সুরঞ্জিত চন্দ্র দাস জানান, কিরগিজস্তানে আমাকে এবং আরও ১৮ জন মানুষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখানে আসার পর ইউক্রেনের দূতাবাসে ভিসার প্রসেসিংয়ের জন্য দালাল রুহেল জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে নেয়। দুবাই থেকে কিরগিজস্তানের ভিসার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের দূতাবাসে ভিসা লাগাতে না পেরে দালাল রুহেল কিরগিজস্তান থেকে গোপনে দুবাই চলে যায়। সাথে আমাদের পাসপোর্ট পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কিরগিজস্তানে তাদের এক দালাল চক্রের কাছে দিয়ে যায়। পাকিস্তানী সেই দালাল আমাদের পাসপোর্ট দিচ্ছে না। আমরা দীর্ঘ ৬ মাস যাবত মানবেতর জীবনযাপন করছি। দেশ থেকে টাকা এনে সেখানে রুম ভাড়া ও খাবার খরচ দিতে হচ্ছে। কিরগিজস্তানে আসার পর থেকে ্ওই পর্যন্ত রুম ভাড়া ও খাবার খরচ বাবদ ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
সুরঞ্জিত জানান, আমার মতো আরও কয়েকজন যুবককে পোল্যান্ড পাঠানোর কথা বলে কিরগিজস্তানে নিয়ে এসেছে দালাল রুহেল। সে ও তার মা, বোন ও ভাইকে নিয়ে দুবাই থাকে। দালের প্রলোভনে পড়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, পাসপোর্ট না পাওয়ার কারণে দুবাই যেতে পারছি না ও নিজ দেশে ফিরতে পারছি না।
সুরঞ্জিতের পিতা সুকুমার চন্দ্র দাস বলেন, আমার মাথা কাজ করছে। পরিবারের সবাই সুরঞ্জিতের জন্য চিন্তায় আছি। আমার বহু কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে ছেলের কাছে পাঠাচ্ছি। আমার তিন ছেলের মধ্যে সুরঞ্জিত সবার বড়। দালাল রুহেল শুরুতে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে কিরগিজস্তান নিয়ে আমার ছেলেকে বিপদের মধ্যে ফেলে এসেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা প্রিয়াকা বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে বিদেশে যেতে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায়ই মানুষকে সচেতন করি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’