ফেঞ্চুগঞ্জে কুরকুছি খাল খননে দায়সারা কাজ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফেঞ্চুগঞ্জে কুরকুছি খাল খননে দায়সারা কাজ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী – ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ
  1. rumelahsan80@gmail.com : Rumel Ahsan : Rumel Ahsan
  2. rumelahsan12@gmail.com : admin :
১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| শনিবার| সকাল ১১:৪৫|
সর্বশেষ :
সিলেটে ক্যান্সার রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছে চীনের মডার্ন ক্যান্সার হসপিটাল ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানা একমাস বন্ধ ফেঞ্চুগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ ডিলারের বিরুদ্ধে ফেঞ্চুগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ফেঞ্চুগঞ্জে এতিম শিশুদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল ঢাকা-সিলেট রুটে ১০০ কিলোমিটার স্পিডে ট্রেন চালানো লক্ষ্য আমাদের: মন্ত্রী আরিফুল পারিবারিক কলহের জের ধরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই নি/হ/ত ফেঞ্চুগঞ্জে ঈদ উপহার বিতরণ ফেঞ্চুগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

ফেঞ্চুগঞ্জে কুরকুছি খাল খননে দায়সারা কাজ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেটের সময় :শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬
রুমেল আহসান:: ফেঞ্চুগঞ্জে কুরকুছি খাল খনন করে মাটি ফেলা হচ্ছে খালের পাশেই। এতে খালটি পুনরায় ভরাটের শষ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে খননকাজের অর্থ অপচয় হচ্ছে বলে জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, যেভাবে খাল খনন করছে, তাতে কৃষকদের কোনো উপকারে আসবে না। বৃষ্টি শুরু হলেই পাড়ের মাটিতে খাল ভরে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
জানা যায়, কুরকুছি খাল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রাম থেকে সোনাপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সোয়া চার কিলোমিটার খাল খনন, ব্লক নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী খালের দুই পাশে ৭ মিটার করে ঢাল (স্লোপ)  তৈরি এবং তলদেশ ১ মিটার গভীর খনন করার কথা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের পশ্চিম পাড় ভেঙে পূর্বপাড়ে চর সৃষ্টি হয়ে বড় একটি বাক তৈরি হয়েছে। যে বাকে স্রোতের তোড় আঘাত পেয়ে পশ্চিম পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। ওই চর কেটে খালের গতিপথ সোজা করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। বরং ভাটির দিকে গিয়ে প্রশস্ত দেখাতে খালপাড় কেটে  গ্রামের ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। এতে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারী বলেন, আমাদের বাড়িঘর ও কবরস্থান খালের ভাঙনে বিলীন হয়েছে। মরহুম সুনু মিয়া, জিয়াদের বাড়ি এই খালে হারিয়ে গেছে। সাংবাদিক ফরিদ উদ্দীন, মাছুম মাস্টারের বাড়ির পিছনের অংশ খাড়া হয়ে ভেঙ্গে গিয়েছে। এসব ভাঙ্গনের জন্য এই চরই মূল কারণ। যা স্রোতকে পাড়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী ১ মিটার গভীরতা বৃদ্ধি, ৭ মিটার করে দুইপারে স্লোপ এবং চর-বাঁক কেটে খাল সোজা করার দাবি জানান।
মল্লিকপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন জানান, নানা অনিয়মের অভিযোগে খাল খনন কাজ পরিদর্শনে এসে খনন কাজে নিয়োজিত লোকদের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক করে যান। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকেরা তাদের মনমতো কাজ করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার পক্ষের নিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক্সকাভেটর আসা–যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করা প্রয়োজন। তবে স্থানীয়রা এটিকে নিয়মবহির্ভূত কাজ বলে দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী গত বছরের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হওয়ায় বর্ষার আগে তা সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মল্লিকপুর ও সোনাপুর এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, পানির গতিপথ সোজা করা না হলে প্রতি বছরই খালে ভাঙ্গন হবে। স্রোতের তোড় যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়ে সোজা চলে যেতে পারে এ ব্যবস্থা না করলে এসব খনন কাজ কোন উপকারে আসবে না। হয়তো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করে বৃষ্টির অপেক্ষা করতেছে। যাতে কাজ না করে বৃষ্টির অজুহাতে বিল তুলে নিতে পারে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে খাল খনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে যে খালের সঠিক সীমানা, গভীরতা ও প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়, নকশা, শিডিউল করা হয় তখনই ভুল ছিল। সরেজমিনে প্রয়োজনীতা দেখে ও  স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে চর বাক কাটা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন

© ২০২৫ ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
এই ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে Bangla IT