
রুমেল আহসান: দুঃখ বুঝে দুঃখী মানুষের পাশে থাকতে পারাটাই হয়তো ভাগ্যের ব্যাপার। সমাজের ক’জন মানুষের সে ভাগ্য হয়। সবাই রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত। অথচ অসহায়, দরিদ্র ও মানুষের মুখে একঝলক হাসি দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে কিছু মানুষের অন্তর। রাতের শান্তির ঘুমটা বিসর্জন দিয়ে দীপ্ত আলোর নিশান হাতে বার বার তারা ছুটে যান দুঃখী মানুষের পাশে। তারা ভাবেন মানবসেবা করার জন্যই হয়তো এই পৃথিবীতে তাদের আগমন ঘটেছে। এরকমই উদ্যোগ নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জের একঝাঁক তরুণ ছুটে চলেছেন মানুষের পাশে।
স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে বিপর্যস্ত পুরো সিলেট। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত গ্রহণ করেছে সামাজিক সংগঠন ‘ফেঞ্চুগঞ্জ যুব সমাজ’।
যুবশক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্র পরিবর্তনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য চাই গতি, শক্তি ও প্রগতি। যারা পুরনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে চলে এবং কূপমণ্ডূকতার আশ্রয় নেয়, তাদের দ্বারা সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই কালে কালে যুবকরাই উড়িয়েছে পরিবর্তনের বৈজয়ন্তী। সেই বৈজয়ন্তীর লক্ষ্যে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ যুব সমাজ’ সংগঠনটি একঝাঁক তরুণদের নিয়ে গঠিত।
সংগঠনের শুরুটা ক্রীড়াকে ঘিরে হলেও বর্তমানে আর্তমানবতার কল্যাণে নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছেন সংগঠনের সদস্যরা। ফেঞ্চুগঞ্জে দীর্ঘ ১ মাস ধরে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ যুব সমাজ সেই ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কখনো রান্না করা খাবার, কখনো শুকনো খাবার, আবার কখনো খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে গেছেন পানিবন্দী মানুষের ঘরে।

পানিবন্দী মানুষের ঘরে নেই ঈদ আনন্দ। কারো ঘরে হাঁটুসমান পানি, আবার কারো ঘরে কোনরসমান। অনেকে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ পানিবন্দী মানুষের ঘরে ছড়িয়ে দিতে নীরবে নিভৃতে ঈদ উপহার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ‘ফেঞ্চুগঞ্জ যুব সমাজ’ সংগঠনের সদস্যরা।
যুব সমাজের প্রচেষ্টা বদলে দিতে পারে বিশ্ব। যুবশক্তি অপার সম্ভাবনাময়। যুবশক্তির সম্পৃক্ততা ছাড়া বিশ্বের কোথাও কখনো কোনো সংগ্রাম, সংস্কার বা বিপ্লব সম্ভব হয়নি। ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যার এই দুর্যোগে সেই বিপ্লবে সামিল হয়েছেন যুব সমাজ।
নির্ঘুম রাত কাটিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে ছুটে চলা সংগঠনের সদস্যরা প্রশংসিত হচ্ছেন। কোথাও কোমর পানি, আবার কোথাও হাঁটু পানি মাড়িয়ে চলা যুবকদের পদচারণা জানান দিচ্ছে বদলে যাওয়ার চিত্র।
এই ঈদে পানিবন্দী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর লক্ষ্যে ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যার্ত দুর্গত এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার। বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। আবার কোথাও নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না নৌকা। সংগঠনের সদস্যরা কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন ঈদ উপহার। পৌঁছে দিচ্ছেন পানিবন্দি মানুষের ঘরে খাদ্য সামগ্রী। ছোট্ট ছোট্ট কাঁধে বহন হচ্ছে হাজারো মানুষের মুখের হাসি।