
রুমেল আহসান:: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় দুটি ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামে বিদ্যুৎ বণ্টনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তিনটি উপকেন্দ্র থেকে ১০টি সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তার মধ্যে মাইজগাঁও উপকেন্দ্রের ৪ নম্বর সঞ্চালন লাইনের আওতায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৪নং উত্তর কুশিয়ারা ও ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম বৈষম্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের দনারাম, নারায়ণপুর, চানপুর, ইলাশপুর, খিলপাড়া উত্তর, দক্ষিণ খিলপাড়া, দিনপুর, আটঘর, কোনাপাড়া, কটালপুর এবং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের মল্লিকপুর, কুতুবপুর, উত্তর গঙ্গাপুর, ভেলকোনা, মানিকোনা, সুড়িকান্দি, গয়াসী, সাইলকান্দি ও উজান গঙ্গাপুর গ্রামে ঘন্টার পর ঘন্টা থাকে না বিদ্যুৎ। দুটি ইউনিয়নের এসব গ্রামগুলোতে যখন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন উপজেলার অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে।
এলাকাবাসীর দাবি, উত্তর কুশিয়ারা ও উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রামগুলোকে এড়িয়ে অন্যান্য সঞ্চালন লাইনে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ফেঞ্চুগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সনৎ কুমার ঘোষ বলেন, ‘উত্তর কুশিযারা ও উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের সঞ্চালন লাইনে কম বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা ঠিক নয়। প্রচন্ড গরমের কারণে আগে লোডশেডিং ছিল। এখন বর্ষা মৌসুমে প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক সময় গাছপালা পড়ে গিয়ে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে যায়। এজন্য লাইন মেরামত করতে সময় লাগে।’
কটালপুর এলাকার বাসিন্দা ইসমাঈল আলী বলেন, রোববার দুপুর ১টায় যখন আমি বাড়ি থেকে বের হয়, এর আধঘন্টা আগে থেকে আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। অথচ ফেঞ্চুগঞ্জ সদর এলাকায় আজকে দিনের মধ্যে একবারও বিদ্যুৎ যায়নি। আমরা ওই এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ বণ্টনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। মানিকোনা এলাকার বাসিন্দা আজহার উদ্দিন বলেন, এমনিতে লোডশেডিং আমাদের পিছু ছাড়ছে না। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদী দুই পাড়কে আলাদা করে দিয়েছে, এখন আমাদের কেন এত বিদ্যুৎ যায় আর আসে কিছু বুঝে উঠতে পারি না। কুশিয়ারা নদীর উত্তর পাড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও দক্ষিণ পাড়ে ঠিকই বিদ্যুৎ থাকে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনও আজকাল আমাদের নিয়ে বৈষম্য করেন।
সংবাদকর্মী ফরিদ উদ্দীন বলেন, আমাদের মল্লিকপুর গ্রামে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে অধিকাংশ সময় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে মুঠোফোনে কল দিলে তারা বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেন। ১ ঘন্টার জন্য লোডশেডিংয়ের কথা বলে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর অনেক সময় ৪-৫ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও বিদ্যুৎ আসে না।
উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু বলেন, গত রমজান মাসে লোডশেডিংয়ের কারণে উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নবাসী সিলেট-মৌলভীবাজার সড়ক সন্ধ্যায় অবরোধ করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নানা প্রতিশ্রæতির কারণে জনগণ আমাদের কথা মেনে নিয়ে অবরোধ তুলে নেন। এরপর দেখা যায় আমার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৭-৮ ঘন্টা লোডশেডিং থাকে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে কম লোডশেডিং হলে কুশিয়ারা নদীর উত্তর পাড়ের অতিরিক্ত লোডশেডিং হয়ে থাকে। বিদ্যুৎ বিভ্রান্তির কারণে অনেক সময় ইউনিয়নে নাগরিক সুবিধা নিতে আসা সেবাগ্রহীতাদের আমরা অনলাইনে থাকা বিভিন্ন কাগজপত্র দিতে পারি না। বৈষম্য দূর করে লোডশেডিং কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান জানান তিনি।
উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবজাল হোসাইন বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে ৪ নম্বর সঞ্চালন লাইনটিতে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। অথচ পাশের ইউনিয়নে সাধারণরত লোডশেডিং কম হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ ইউনিয়ন বাসিন্দারা সবসময় করেন। বিদ্যুৎ বিতরণে সেচ্ছাচারিতা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।