
রুমেল আহসান:: ফেঞ্চুগঞ্জের ‘কালাকাটি’ নামক এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুটের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ফান্দ্রাইল গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে মো. সবুজ মিয়া(৫২)।
মাধবপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগান এলাকায় ডাকাতি ঘটনায় ডাকাতি মূল হোতা সর্দার আমির হোসেন সহ ৬ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্যকে আটক করেন মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা। আটককৃত ডাকাত দলকে কারাগারে প্রেরন করেছে থানা পুলিশ।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, আটক ডাকাতদলের সঙ্গে ছিলেন মোঃ সবুজ মিয়া। গ্রেফতারের পর সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং সে রিমান্ডে আছে। রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হবে।
ফেঞ্চুগঞ্জে ডাকাতির শিকার হওয়া ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পূর্ব সিংগুর গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জুনেল আহমদ (৩১) গত ২৪ জুন রাতে মা, স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের কয়েকজনকে নিয়ে সিলেট নগরে পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। তাঁরা মাইক্রোবাসে করে রাত ১২টার দিকে রওনা দেন। রাত একটার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কালাকাটি এলাকায় সিলেট-কুলাউড়া সড়কে পৌঁছালে ‘পুলিশ’ লেখা রিফ্লেকটিভ বেল্ট পরা তিন ব্যক্তি সংকেত দিয়ে গাড়িটি থামান। তাঁরা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় আশপাশ থেকে লুঙ্গি পরা আরও চার থেকে পাঁচজন সেখানে যোগ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে হীরা ও স্বর্ণালংকার, দুটি আইফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ২০ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় রাগিব জিসান মান্না অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
রাগিব জিসান মান্না বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ থানা থেকে আমাদের জানানো হয়েছে ডাকাত সবুজকে মাধবপুরে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার ছবি দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ডাকাতির সময় সে মুখোশপরা ছিল।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানা ওসি মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘মাধবপুর থানা পুলিশ সবুজকে গ্রেফতার করেছে। ফেঞ্চুগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় সে জড়িত। মাধবপুর থানা থেকে আসামি সবুজকে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করার পর আমরা তার রিমান্ড চাইবো’।