আনন্দঘরে বিপুল আনন্দ আনন্দঘরে বিপুল আনন্দ – ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ
  1. rumelahsan80@gmail.com : Rumel Ahsan : Rumel Ahsan
  2. rumelahsan12@gmail.com : admin :
| | | | |

আনন্দঘরে বিপুল আনন্দ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেটের সময় :Thursday, August 13, 2026

সন্ধ্যা আর রাতের আলিঙ্গনের মধ্যকালীন সময়টা।গ্রীষ্মের এই এই লম্বা দিনে সন্ধ্যাটা কিছুটা দেরিতে আগমনী বার্তা ঘোষণা করে। জুলাইর শেষ প্রান্তে প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। এই সময়টা হালকা হিমেল হাওয়া দেহ মনকে সজীব করে দেয়। এই মুহূর্তে আনন্দঘরে কাংখিত অতিথির আগমনে যেন আনন্দঘর আলো ছড়ালো।

 

২৫ জুলাই রাতটা মিশিগানের সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিসেবীদের জন্য ছিল অন্যরকম এক রাত। সেদিন আনন্দঘরে অতিথি হয়ে আনন্দঘরকে আলোকিত করেছিলেন তৈমুর হোসেন বিপুল। সাবেক রাষ্ট্রপতির একান্ত সহকারী, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা। পদ, পদবীর চাইতে ব্যক্তি বিপুল তার ক্যারিশমাটিক চারিত্রিক গুণাবলী দিয়ে মুহূর্তেই মানুষের মনে জায়গা করে নেন পরম শ্রদ্ধা আর ভালবাসায়।

 

সেদিন শনিবার আনন্দঘরে তৈমুর হোসেন বিপুল কেক কেটে আনন্দ উৎসবের সূচনা করেন। সাংবাদিক জুয়েল খানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তৈমুর হোসেন বিপুল উপস্থিত গুণীজনদের চমকে দিলেন। তিনি বললেন, এখানে সব চেয়ে অযোগ্য লোকটাকে কথা বলতে দেয়া হয়েছে। আর সব যোগ্য লোকগুলো কথা শুনছেন। এই একটি কথা উপস্থিত গুণীজনদের মনে দারুণভাবে স্পর্শ করে।

 

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী শফিক রহমান দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে শুরু হয় গানের এই আয়োজনের। গানের সূচনালগ্নে আবারও চমকে দিলেন তৈমুর হোসেন বিপুল। চেয়ার ছেড়ে ফ্লোরের কার্পেটে বসে পড়েন। হাতে তুলে নিলেন মন্দিরা। নিখুঁতভাবে মন্দিরা বাজিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন বিপুল। গানের পিঠে গান গেয়ে চলেছেন শফিক রহমান। গানের ঝুলি যেন খুলে বসেছেন প্রবীণ এই শিল্পী। ধীরে ধীরে যেন সুরের ইন্দ্রজালে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন আনন্দঘরের সুধীজন।

 

তরুণ গায়ক সাঈদ আহমদ জনপ্রিয় কয়েকটি গান পরিবেশন করে সবার মাঝে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেন। গান পরিবেশন করেন ভার্জিনিয়া থেকে আনন্দ উৎসবে আসা খায়রুল খান। তবলায় সুর মেলান মিশিগানের জনপ্রিয় তবলা বাদক হৃষীকেশ দাস। গানের ফাঁকে যেন এতক্ষণ অপেক্ষায় ছিলেন অভিজ্ঞ যন্ত্রশিল্পী অসিত বরন চৌধুরী। তিনি গিটারে সুর তোলেন “একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনার গায়”। অনেকে চোখ বুজে মাথা দুলিয়ে সুরের সাথে একাত্ম হয়ে যান। তারপর বাজালেন “বাউলা কে বানাইলো রে, হাছন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে”।

 

হঠাৎ করে আনন্দ উৎসবে আসেন নিউইয়র্ক থেকে আগত বাংলাদেশ কালচারাল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, কবি বদরুজ্জামান রুহেল। তিনি গানের তালে তালে নৃত্য করে অনুষ্ঠানে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন। গানের ফাঁকে কবি সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান অনুষ্ঠানের মধ্যেমনি তৈমুর হোসেন বিপুলকে একটি কবিতা আবৃত্তির অনুরোধ করলে “হে ছিল বিরহী” কবিতাটি আবৃত্তি করেন বিপুল। এত আবেগ দিয়ে কবিতাটি আবৃত্তি করেন, সবাই করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করেন। কবিতা আবৃত্তি করেন গীতিকার ইশতিয়াক রূপু, সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান ও অসিত বরন চৌধুরী।

আনন্দ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা, সাহিত্যিক আহবাব চৌধুরী খোকন, রাজনীতিবিদ গোলাম মোস্তফা খান, কবি ইশতিয়াক রূপু, কবি বদরুজ্জামান রুহেল, বাংলা সংবাদ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং যমুনা টেলিভিশনের যুক্তরাষ্ট্র সিনিয়র প্রতিনিধি ইকবাল ফেরদৌস, ডিবিসি টেলিভিশনের মিশিগান প্রতিনিধি আশিক রহমান, টিবিএন টেলিভিশনের মিশিগান প্রতিনিধি টি আর সোহেল, চ্যানেল আই মিশিগান প্রতিনিধি ফয়ছল আহমদ মুন্না, কবি সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান, সমাজকর্মী সেবুল মিয়া, নাট্যকর্মী রেজাউল করিম রায়হান, নাট্যকর্মী সৈয়দ তায়েফুজ্জামান, চেয়ারম্যান ডালিম, সংগীতশিল্পী আহসান উদ্দিন শুভন, সাঈদ আহমদসহ আরো অনেকে।

 

ধীরে ধীরে রাত গভীর হচ্ছে। আনন্দঘরে উপস্থিত গুণীজনরা কয়েক ঘণ্টা সুরের ইন্দ্রজালে বিমোহিত থাকলেও সকল আলো কেড়ে নেন তৈমুর হোসেন বিপুল। তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, আন্তরিকতা, আর বিনয় দিয়ে মন জয় করে নিলেন সবার। একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে সবাই ঘরে ফিরে গেলেন। আনন্দঘরের বিপুল আনন্দ যেন হয়ে উঠলো বিপুলময়।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন

© ২০২৬ ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
এই ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে Bangla IT