হাকালুকি হাওরে মিলছে রুপালি ইলিশ হাকালুকি হাওরে মিলছে রুপালি ইলিশ – ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ
  1. rumelahsan80@gmail.com : Rumel Ahsan : Rumel Ahsan
  2. rumelahsan12@gmail.com : admin :
| | | | |

হাকালুকি হাওরে মিলছে রুপালি ইলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেটের সময় :Sunday, September 13, 2026

হাকালুকি হাওরের পানিতে বেড়জাল ফেলেছিলেন কয়েকজন জেলে। কয়েক দফা জাল টানার পর দেশি বিভিন্ন মাছের সঙ্গে উঠে আসে রুপালি ইলিশ। আকারে ছোট হলেও হাওরের মিঠাপানিতে ইলিশের উপস্থিতি দেখে খুশি জেলেরা। তারা জানান, কয়েকদিন ধরে অনেকের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়ছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার আছুরিঘাট এলাকায় গিয়ে সম্প্রতি জেলেদের জালে ধরা ইলিশের দেখা মিলেছে। কুলাউড়া-বড়লেখা-চাঁদগ্রাম সড়কের পাশে হাওর থেকে ধরা মাছ নিয়ে বসেছিলেন স্থানীয় কয়েকজন জেলে। তাদের মাছের ঝুড়িতে ছিল শোল, টেংরা, কইসহ বিভিন্ন দেশি মাছ। এর মধ্যেই নজর কাড়ছিল কয়েকটি ইলিশ।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. ওমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়া জানান, কয়েকজন মিলে হাওরে বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। একবার জাল টানার পর সব মাছ ওঠেনি। পরে আরও চার-পাঁচবার জাল ফেললে কয়েকটি ইলিশ ধরা পড়ে। গত কয়েক দিন ধরে একইভাবে অন্য জেলেদের জালেও ইলিশ উঠছে বলে তারা জানান।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধরা পড়া ইলিশগুলোর বেশির ভাগের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। মিঠাপানির হাওরে হঠাৎ ইলিশের উপস্থিতি তাদের কাছে আনন্দের। ইলিশের পাশাপাশি এ বছর হাওরের অন্যান্য দেশি মাছের পরিমাণও বাড়বে।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, হাকালুকি হাওরের সঙ্গে মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগ রয়েছে। সাধারণত প্রতিবছর হাওরে দুই থেকে চারটি ছোট আকারের ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এবার তুলনামূলকভাবে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও ব্যাপকভাবে ধরা পড়ছে বলে জানান তিনি।

মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, হাকালুকি হাওরের সঙ্গে নদীর সরাসরি সংযোগ থাকায় নদী থেকে ইলিশের হাওরে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষায় পানির প্রবাহ ও স্রোতের পরিবর্তনের সঙ্গে মাছের চলাচলও বাড়ে।

আবু মাসুদ বলেন, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের সময় হাকালুকি হাওরের পানি কুশিয়ারা নদী হয়ে পদ্মার দিকে যায়। পানির এই প্রবাহের কারণে ইলিশও স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে। এভাবেই কিছু ইলিশ হাওরে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তার আশা, হাওরের পরিবেশ ও পানির প্রবাহ অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক বছরে হাকালুকি হাওরে ইলিশের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।

প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর আয়তনের হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। দেশের বৃহত্তম এই হাওর একসময় দেশি মাছের অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।

এর আগেও হাকালুকি হাওরে ইলিশ ধরা পড়েছে। ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালে হাওরে তুলনামূলকভাবে বেশি ইলিশ পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে এবার জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ার হার আগের কয়েক বছরের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন

© ২০২৬ ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ। সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
এই ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে Bangla IT