
রুমেল আহসান:: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। তফসিল ঘোষণার পর থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলোচনা-সমালোচনা। বাজার থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এ আলোচনা সর্বত্রই। বাজারের চায়ের স্টল, হাট-ঘাট, মাঠ সর্বত্রই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। মোট কথা ৩ জন থেকে ৫ জন ভোটার একত্রিত হলেই শুরু হয়ে যায় নির্বাচনী আলোচনা।
বিভিন্ন ইউনিয়নের সর্বসাধারণের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সবকটি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে অনেকটাই দৃশ্যমান। প্রার্থীরা এখন মৃত ব্যক্তির জানাজা, বিয়ের আসরে, সামাজিক বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে, এলাকার খেলাধুলার অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছেন। সর্বোপরি ঊর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে নিজের পক্ষে দলীয় নমিনেশন নেয়ার আকাঙ্খায় ব্যস্ত রয়েছেন অনেকে।
উঠান বেঠক থেকে শুরু করে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে শুরু করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, দলীয় কর্মকান্ডে গুরুত্বসহ জনগণের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে ইউনিয়নটিকে উপজেলার একমাত্র মডেল ইউনিয়নে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা।
এদিকে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থীরা ওয়ার্ড ভিত্তিক নিজ এলাকায় উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের সমর্থন নিয়ে অনেকে ভোটের মাঠে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন অনুসারীরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিজয়ী হওয়ার জন্য নিজেকে সৎ ও যোগ্য দাবি করে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের মনাই মিয়া বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। নির্বাচন আসলে আমাদের কদর বাড়ে। নির্বাচন শেষ হলে গেলে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এজন্য জেনে-বুঝে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিব। একই গ্রামের ব্যবসায়ী রুহেল আহমদ বলেন, বিপদে-আপদে যাকে ডাকলে কাছে পাওয়া যাবে, এমন ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করব।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে দৌঁড়ঝাপ চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়ে ও নৌকার মাঝি হতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুনজরে আসতে অনেকে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত। কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? এনিয়ে নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষদের মধ্যে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২০ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ মার্চ। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৯০০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৪০ হাজার ১৫৫ জন ও নারী ভোটার ৩৯ হাজার ৭৪৫ জন।