
রুমেল আহসান: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আস্তে আস্তে মানুষ উঠতে শুরু করেছে। বন্যায় পানিতে ডুবছে নতুন নতুন এলাকা। ইতিমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ৯০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিপদ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ। তবে ঝুঁকি থাকলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা মানুষের একটি বড় অংশের। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘর ফেলে সবাই যাবে না। রাতে বাতাস ও পানির চাপ বাড়লে তখন প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাবে তারা।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ভেলকোনা, সুলতানপুর, সুড়িকান্দি, সাইলকান্দি, গয়াসী, পিঠাইটিকর, ছত্তিশ, বারোহাল, বাঘমারা, জেটিঘাট, পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর, চানপুর গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের ৮০ শতাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পূর্ব বাজারে হাঁটু সমান পানি। মধ্য বাজারে বুক সমান, থানার রোড পয়েন্টে হাঁটু সমান পানি। পোস্ট অফিস সড়কের পাশে নাথ কলোনীতে বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় বন্যার্তরা চন্ডী প্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন মানুষ।
হাকালুকি হাওর তীরবর্তী পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর গ্রামে বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
চন্ডী প্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে ১৩ টি পরিবার ও পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে ১৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে শনিবার রাতে চন্ডী প্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব যুধিষ্ঠিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম বারী ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজকে বলেন, সিলেটে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। উজানেও একই। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।