
রুমেল আহসান: টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
বন্যার পানিতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ডুবে গেছে ফেঞ্চুগঞ্জ সদরের বাজার সহ সরকারি, বেসরকারি প্রতিটি অফিসসহ অলিগলি, পাড়া মহল্লা, দোকানপাট, ফার্মেসি ও রেস্তোরাঁ।
এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে খাবারের জন্য হাহাকার। বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট ও গ্রামীণ দোকানপাট বন্ধ থাকায় খাবারের সন্ধানে ছোট নৌকা ও হেঁটেই বের হচ্ছেন অসহায় মানুষগুলো।
অনেকে অর্থ অভাবে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আবার অনেকে দ্বিগুণ দামে কলা-বিস্কিট কিনে রাস্তায় বসে খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের মাসুক মিয়া বলেন, পানিবন্দী অবস্থায় চারদিন ধরে আছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। টাকার অভাবে খাবার কিনতে পারছি না। দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন রুজি করি, প্রতিদিন খায়। বন্যার কারণে কাজকর্ম কিছু নাই।
গয়াসী গ্রামে শ্যামল দাস বলেন, এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়া যাচ্ছে। বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নৌকা দিয়ে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও অনেকে নৌকা না পেয়ে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, ত্রাণ তো দূরের কথা। আমরা গয়াসী গ্রামের পানিবন্দী মানুষের খোঁজ নিতে কেউ আসছেন না।