
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। এতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা।
উপজেলায় বন্যাকবলিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। পানিবন্দি লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
কুশিয়ারা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জের ৬০ ভাগ বাসাবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী মানুষেরা। ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ফেঞ্চুগঞ্জে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে প্রায় আট শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পিঠাইটিকর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল আহমদ বলেন, যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা আগে কোনো সময়ে দেখিনি। আমাদের আশপাশে এমন কোনো বাসাবাড়ি নেই, যাদের ঘরে পানি ঢোকেনি।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে পানি বাড়ছে এটা অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
রহমান মিয়া বলেন, ‘বাসাবাড়িত পানি আইছে, বাচ্চা-কাচ্চা লইয়া বেশি চিন্তাত আছি। ঘরের ভেতরে পানি, বাইরেও পানি। সবকিছু মিলে চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিন জানান, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সব এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। যাদের ঘরে পানি উঠেছে, তাদের স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রে পুনর্বাসন করা হচ্ছে এবং ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।