ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক রেজান আহমদ শাহ্ মুখোমুখি হয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ নিউজ ডটকম-এর।
রেজান আহমদ শাহ্ বলেন, বাঙালী জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে জন্ম নেয়া উপমহাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আমার যৌবনের প্রথম প্রেম, প্রেরণার উচ্ছাস, গৌরবের সংগঠন ছাত্রলীগ।
আজকের এইদিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ৭৫’-এ ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত সকল শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাই ছাত্রলীগের সব প্রয়াত নেতাকর্মীকে। শুভেচ্ছা জানাই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমানের সব নেতাকর্মীদের। সময়ের প্রয়োজনে জন্ম নেয়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সময়ের সাহসী সন্তানদের নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলেছে। জন্মলগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালীর স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সাত দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পূর্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘শিক্ষা শান্তি প্রগতি’ মানবীয় শ্লোগান দিয়ে গঠন করেন ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী। প্রজ্ঞাবান জাতির পিতা জানতেন, অক্ষয় মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজই পারে মানবীয় দেশ গড়ে তুলতে। তারুণ্যের উচ্ছল প্রাণ বন্যায় ভরপুর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা দেশের ইতিহাসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, লড়াই করেছেন প্রতিটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে। ঠিক এই কারনেই বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালি জাতির ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস।’
বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালীর ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, ‘৫৪-এর সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ পরিশ্রমে যুক্তফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত, ‘৫৮-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ‘৬২-এর শিক্ষাা আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভ‚মিকা, ‘৬৬-এর ৬ দফা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া, ৬ দফাকে বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পাক শাসকের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা, ‘৭০-এর নির্বাচনে ছাত্রলীগের অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ, স্বাধীনতাপরবর্তী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগের অসামান্য অবদান দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অনেক শীর্ষনেতার রাজনীতিতে হাতেখড়িও হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে। তবে সংগঠনটির চলার পথ অনেক ক্ষেত্রে কুসুমাসত্মীর্ণও ছিল না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সংগঠনটি বড় ধরনের ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। তবে থেমে যায়নি বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংঠন। বরং যারাই ছাত্রলীগ থেকে সরে গিয়েছেন তারাই ক্রমান্বয়ে হারিয়ে গেছেন কালের অতল গহ্বরে। শিক্ষা শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী এই সংগঠনটি একটি ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাস অসমাপ্ত থেকে যাবে যদি ছাত্রলীগের ইতিহাসকে বাদ দেয়া হয়। প্রগতিশীল রাজনীতি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে এসেছে ছাত্রলীগ। ৭১ পরবর্তী সামরিক শাসনের অবসানের জন্যেও আন্দোলন করেছে ছাত্রলীগ।
ইতিহাসের ধাপ পেরিয়ে পরে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার অগ্রসেনার ভুমিকা পালন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা এবং জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এর সংমিশ্রণ আর কর্তব্যপরায়নের সঙ্গে ছাত্রলীগ অতিক্রম করেছে দীর্ঘ ৭৪ বছর।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শাখা নবগঠিত কমিটিতে আমাকে আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়েছে। আহ্বায়ক হিসেবে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনের জন্য কাজ করব। আমার মূল লক্ষ্য হলো, ফেঞ্চুগঞ্জে তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করে তোলা। মেধাবীদের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ একটি সুন্দর কমিটি আমাদের উপহার দিয়েছেন। সিলেট জেলার মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ ছাত্রলীগকে একটি শক্তিশালী ইউনিট ও কর্মীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা আমার মূল লক্ষ্য।